আকাশ বার্তা
Next Prev

পাকিস্তানের এই মন্দিরে নিয়মিত কালী পুজো করেন মুসলিমরা!

বছরে একবারই মা কালীর আরাধনায় মেতে ওঠেন পাকিস্তানি মুসলিমরা

আকাশ বার্তা অনলাইন ডেস্ক: - পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যেকার বিদ্বেষ কারোরই অজানা নয়। বরাবরই সকলের সামনে ফুটে উঠেছে এই ঘটনা। তবে পাকিস্তানের একটি জায়গাতেই এখনো দুই দেশের মানুষই একে অপরকে সম্মান করার মতো ঘটনার দেখা মেলে। আর এই স্থানটি হলো পাকিস্তানেই একটি কালী মন্দির। ভাবছেন এহেন ইসলাম দেশে আবার এখনো মায়ের মন্দির? না এটি কোন কাল্পনিক ঘটনা নয়। দেশ ভাগের পর ইসলামে বিশ্বাসী পাকিস্তানের মানুষ সেই দেশের সমস্ত মন্দির ভেঙে দিলেও এই মন্দিরে কার্যত হাত দেওয়ার সাহস পায়নি কেউ। এমনকী এই মন্দিরে পুজো দিতে আসার পাশাপাশি এই মন্দিরকে এখনো রক্ষা করে যাচ্ছেন স্থানীয় মুসলমানরাই। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেই মন্দিরের ইতিহাস।

পাকিস্তানে কালী মন্দির :- সতির ৫১ পিঠের অন্যতম হিংলাজ দেবীর মন্দির। হিন্দু ধর্মে শক্তিপীঠ হিসেবেই দেখা হয় এই মন্দিরকে। এই তীর্থক্ষেত্রটি অবস্থিত পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে লাজমিলা জেলার হিঙ্গল নদীর তীরেই অবস্থিত এই শক্তিপীঠ। এই কারনেই অনেকের মুখে এটি হিঙ্গুলা দেবী রূপেও পরিচিত। পাশাপাশি সেদেশের অনেকের কাছেই এই দেবী নানী কি মন্দির বলেও ডেকে থাকেন। এমনকি এই মন্দিরের সমস্ত দায়িত্ব তথা রক্ষনাবেক্ষন থেকে শুরু করে সমস্ত তীর্থ যাত্রীদের সুরক্ষা দিয়ে থাকেন বালুচ মুসলমানরাই।

আরো পড়ুন-এবছর কালী পূজার শুভক্ষণ কখন? জেনে নিন কালীপুজোর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট


এক নজরে আজকের সমস্ত ব্রেকিং নিউজ

পাকিস্তানিরাই আগলে রেখেছেন এই মন্দির: - এই মন্দির টিতে কট্টর ইসলাম ধর্মের মানুষেরাও প্রবেশ করে থাকেন। শুধু তাই নয় পাকিস্তানের বিভিন্ন মুসলমান নেতা মন্ত্রী থেকে আমজনতা সকলেই এই মন্দিরে নিয়মিত পুজো করে যান। বিশ্ব জুড়ে ধর্মীয় বিভেদ এর সাক্ষী থাকলেও এই তীর্থীক্ষেত্রে ধর্মীয় ভেদভেদের লেস মাত্র নেই। 

কোন দেবী পূজিত হন এই মন্দিরে :- হিন্দু মতে এই ক্ষেত্রেই এসে পড়েছিল দেবী সতির মাথা। সেই কারনেই এই মন্দিরে নেই কোন মূর্তি। এখানে দেবী রূপে পূজিত হন একটি পাথর। মূলত হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস মতেই দেবীর মাথা হিসেবে পাথর টি লাল সিঁদুরে মোরা দেখতে অনেকটাই মাথার মতোন। আর এই পাথর এখানে পুজো হয়ে আসছে যুগের পর যুগ ধরে। এই পাথর ই হিন্দু রা দেবী রূপে পুজো করেন ফুল ও নারকেল দিয়ে। এবং মুসলমানদের কাছেও এই দেবী পূজিত হন সিন্নি এবং খেজুর দিয়ে। 

আরো পড়ুন-বাড়িতে শঙ্খ রাখলে কী হয় জানেন? এক নয়.. ৬ সুফল পাবেন একসাথে, জানুন

মুসলমানদের হাতেও পূজিত হন দেবী :- এপ্রিল মাসের ৪ দিন এই নানী কে মন্দিরের উদ্দেশ্যে তীর্থ যাত্রা করে থাকেন অনেক মুসলমানই। দীর্ঘ মরুভূমি পথ পেরিয়ে তারা এই তীর্থক্ষেত্র দর্শনে এবং দেবীর আরাধনা করতে সেখানে গিয়ে থাকেন। তাদের কাছে এই দেবী তাদের নানী অর্থাৎ দিদিমা। তাদের মতে এই দেবী তাদের পরিবারেরই একজন সেই কারনেই নানীর উদ্দেশ্যে তারা এই তীর্থ যাত্রা করে থাকেন।

আপনি কী এই নিউজগুলি পড়েছেন? পড়ুন আজকের বাছাই করা ব্রেকিং নিউজের আপডেট

রাজনীতি

তথ্য ও প্রযুক্তি

বিনোদন